দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি প্রদান করা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ফেসিবাদী সরকারের আমলে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সময়ের ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ক্রমাণয়ে পুলিশ আজকে এই পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০০৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ আপনাদের গায়ে যে পোশাক, বুকে যে পরিচয় এবং কাঁধে যে দায়িত্ব অর্পিত হতে যাচ্ছে তা কেবল একটি চাকরির পরিচয় নয়। এটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ন্যায়বিচারের পথ সুগম করার এবং রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার এক মহান অঙ্গীকার। আপনারা এমন এক পেশায় প্রবেশ করছেন, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত একজন নাগরিকের জীবন, একটি পরিবারের নিরাপত্তা এবং সমাজের শান্তিকে প্রভাবান্বিত করবে। তাই আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে দায়িত্বশীল। সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত এবং আচরণে থাকতে হবে মানবিকতার পরিচয়।

তিনি বলেন, পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সেবাপ্রত্যাশী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সেবাদানে আপনাদের হতে হবে আরও আন্তরিক। সকল প্রকার ভয়ভীতি পক্ষপাতিত্বকে উপেক্ষা করে জনমানুষকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে, সর্বোপরি মানুষের পাশে থেকে মানুষকে সেবা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করেই মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়তি, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ, মানবপাচার এবং সঙ্গবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা পুলিশের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল প্রচলিত অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক তদন্ত অপরাধের ধরন সম্পর্কে হালনাগাত জ্ঞান এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, পুলিশি সেবাকে তৃণমূলে পৌঁছে দিতে ফরেন্সিক ডিজিটাল, ফরেন্সিক ডিএনএ পরীক্ষা, ল্যাব ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, বিড পুলিশিং, নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক, জাতীয় জরুরি সেবাসহ আরও অন্যান্য কার্যক্রম চালু রয়েছে। সাইবার স্পেসের সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলার জন্য সংবিধান এবং দেশের মৌলিক আইনে পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত রাখবেন এবং তদন্ত ও আইন প্রয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন। মনে রাখবেন, আপনাদের ও আমাদের লক্ষ্য শুধু অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বরং এমন পরিবেশ গড়ে তোলা যেখানে অপরাধ সংঘঠিত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে। মানুষ নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

সব শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে একটি দক্ষ আধুনিক যুগোপযোগী ও সেবাধর্মী মানবিক বাহিনীতে পরিণত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।




বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদ, শিক্ষার্থী‌দের ভাঙচুর

বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদ, শিক্ষার্থী‌দের ভাঙচুর
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ সচিবালয় বর্তমান জায়গা থেকে সরিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তর করার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হ‌য়ে‌ছেন শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। তারা এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলার জন্য নির্মিত একটি গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালের দিকে তারা ওই মাঠের মেলার স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করেন তারা।

এর আগে সকা‌লে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাস্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে মেলার গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, মেলা সরিয়ে নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। এজন্য সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে কোনও অগ্রগতি আমরা দেখিনি। আমরা আমাদের মাঠ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এ বিষয়ে মেলার মহাজন মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনই গেট সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলে দিচ্ছি। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ নই। আমরা এটি সরিয়ে ফেলবো।’

উল্লেখ‌্য, মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের জন্য চলমান মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার কাজ চলছিল। দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে এসে মাটি পরীক্ষাকাজের যন্ত্রাংশ এবং দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। 




বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে তার আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতাওকা সুসুমুকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 




বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের প্রতারণা ও চাপের মুখে ফেলে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করানোর প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের এক প্রতিবেদনের সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে পেশ করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে মস্কো। এদের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার সুযোগ নিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই রুশ ভাষায় লেখা ডিফেন্স মিনিস্ট্রির চুক্তিপত্রে তাদের সই করতে বাধ্য করা হয়, যার ভাষা তারা বুঝতেই পারেননি। জাতিসংঘ কমিশনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যখন বুঝতে পারেন যে তাদের রুশ সামরিক বাহিনীর হয়ে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে হবে, তখন তারা হতভম্ব হয়ে যান।

কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের ওপর তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২৯টি দেশ হলো— বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে।

একই প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মারাত্মক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, কনকনে শীতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার এই কাজ যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে বলেন, জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে এই আক্রমণগুলো যুদ্ধাপরাধ, কারণ এগুলো সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। এর ফলে বরফশীতল অন্ধকারে সাধারণ মানুষকে অমানবিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাওয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় লিফটে উঠতে না পেরে বয়স্ক মানুষেরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি এবং হাসপাতালের লাইফ-সাপোর্টে থাকা রোগীরা চরম জীবনঝুঁকিতে পড়েন। ২০২৫-২৬ সালের শীতে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংস্থার সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন জানিয়েছে, তারা এই কমিশনের প্রতিবেদনকে স্বীকার করে না এবং তাদের আনা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া তথ্য নির্ভর দবলে দাবি করেছে।